সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

চিকিৎসক সংকটে দিশেহারা শায়েস্তাগঞ্জের রোগীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসের আতঙ্কের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন ডাক্তাররা। এতে চিকিৎসক সংকটে দিশেহারা শায়েস্তাগঞ্জের রোগীরা।

এ দিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল এখনও নির্মাণ হয়নি। ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জে গিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেয়াও কষ্টসাধ্য। অনেক সময় রোগীদের পক্ষে এত পথ পারি দেয়াও সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস ভীতিতে অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিড় করে উপজেলার রোগীরা। পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী ডাক্তার দেখাতে ওই সব প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন। কিন্তু প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পল্লী চিকিৎসকরা চেম্বার খোলা রাখায় কিছুটা হলেও চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে লোকজন। তবে উপজেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তাররা রোগী দেখছেন না।

করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের মতো শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাও অঘোষিত লকডাউনে রয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে প্রত্যেক ডাক্তারের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এমন অবস্থায় টাকার বিনিময়েও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

রোগীদের অনেকেই বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে এসেছেন। কিন্তু এখানেও ডাক্তার নেই।

শুক্র ও শনিবার ঢাকা ও সিলেট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে না আসায় তাদের চেম্বারগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে চেম্বারে আগত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। এমনটি চলতে থাকলে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন উপজেলার অনেক রোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক জানান, চিকিৎসকরাও মানুষ, তাদেরও পরিবার-পরিজন রয়েছে। তাই চিকিৎসকরাও একরকম আতঙ্কিত। ফলে অনেক চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

শায়েস্তাগঞ্জের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আমিনুল আনোয়ার বলেন, আমাদের এখানে কোনো ডাক্তার চেম্বার না করায় এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) সংগ্রহ করতে না পারায় নিরাপত্তার স্বার্থে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মধ্য অলিপুরে ও পৌরসভার ওয়ার্কসপ এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা রয়েছে। আর সবগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, শায়েস্তাগঞ্জে উপজেলা হাসপাতাল এখনও নির্মাণ হয়নি। আমারও লোকজন নেই। তবুও আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করছি যাতে একজন রোগীও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি বলেন, এই উপজেলার লোকজনের ডাক্তার দেখানোর জায়গা প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাস দেখা দেয়ার পর থেকে প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ থাকায় রোগীরা পড়ছে চরম বিপাকে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য তাদের ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জে গিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। অঘোষিত লকডাউন থাকায় হবিগঞ্জে যাতায়াত করা একরকম যুদ্ধের সমান।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে প্রাইভেট চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগী দেখা বন্ধ করা অমানবিক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যে সব ডাক্তার রোগী দেখছেন না তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী ডাক্তারদের বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com